নিজেস্ব প্রতিবেদক: মো: মাসুদ রানা
পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় উপজেলায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৯ নভেম্বর) দুপুরের দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্ববাহী কর্মকর্তা তৃলা দেব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলাধীন তাইন্দং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড জোনাব আলী সর্দার পাড়ার কৃষক ইসমাইল হোসেনের হাতে মেশিনটি হস্তান্ত করেন। এসময় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা য়ায়, জাপানে তৈরী কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের বাজার মূল্য ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সরকার ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে এই মেশিন পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন। এই মেশিনের সাহায্যে ধান-গম কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করা যায় এবং খড় আস্ত থাকবে।
বাংলাদেশের কৃষি এখনও মানুষ ও পশুশক্তি, সনাতন খামার যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল। গত তিন দশকে জমি কর্ষণ ও সেচব্যবস্থা যান্ত্রিকীকরণের কারণে শস্যের নিবিড়তা অনেকটা উন্নীত হয়েছে। যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশের কৃষকগণ কাস্তে দিয়ে হাতের সাহায্যে মাঠের ধান কেটে থাকেন। কিন্তু কাস্তে দিয়ে ধান কাটার কার্যক্ষমতা অত্যন্ত কম হওয়ায় ধান কাটতে অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। দেশে ধান কাটার ভরা মৌসুমে শ্রমিকের অভাব প্রকট হয়ে দেখা দেয়ায় সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ফসল কর্তন বাংলাদেশের কৃষির প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এসব সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে ধান-গম কাটার জন্য হেড ফিড মিনি কম্বাইন হারভেস্টার উদ্ভাবন করেছে। যা দিয়ে ধান-গম কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করা যায় এবং খড় আস্ত থাকে।
যন্ত্রটি ১৫-২০ সেমি মাটির গভীরে শক্ত স্তর (প্লাউ-প্যান) যুক্ত কাদামাটিতে চলতে পারে। যন্ত্রটি দিয়ে কম সময়ে অধিক জমির ধান-গম কাটা যায় বিধায় কর্তনোত্তর অপচয় হ্রাস পায় এবং সার্বিক উৎপাদন খরচ কম হয়।
Leave a Reply