মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার
কৃষি উপকরণ বিতরণে চরম অনিয়ম
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
খাগড়াছড়ি জেলা মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লাগামহীম দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আর্থসাধের ঘটনা ঘটেছে। কৃষি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান ও তার একান্ত সহযোগি কৃষি উপ-সহকারী আমির হোসেন এর বিরুদ্ধে। তাহাদের সেচ্চাচারিতায় অতিষ্ঠ স্বয়ং এ অফিস সহকর্মীরাও।
দীর্ঘ দিনব্যাপী দৈনিক পার্বত্য. কম এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সিমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আর্থসাধের বাস্তব চিত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগত বিশ্ব মনদ্ধার কবল থেকে বাংলা দেশ কে রক্ষা করার আগাম বর্তা হিসাবে দেশের জনগণকে বলেছেন, দেশের এক ইঞ্চি জায়গা খালি রাখা যাবেনা। সে লক্ষে কৃষক কে আর্থিক সহায়তা, সার বীজ ও কিটনাশক দিয়ে সহযোগিতার জন্য কৃষি বিভাগকে প্রদান কৃত উপজেলা ব্যাপি সরকারী বরাদ্দে লুটপাটের ঘটনা গটেছে।
কৃষক জানেনা সরকার তার জন্য কি পরিমান উপকরণ দিচ্ছে। সঠিক তদারকি ও বিতরণের অভাবে সরকারী বরাদ্দের সুফল পাচ্ছেনা কৃষক। অনুসন্ধানে এমনি তথ্য বেরিয়ে এসেছে মাটিরাঙ্গা কৃষি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান ও উপ-সহকারি আমির হোসেনের অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাধের বিষয়টি। কৃষকদের অভিযোগ পারিবারিক পুষ্টি বাগানে ব্যাবহার করা হয়েছে নিম্ম মানের উপকরণ, বীজ ও সার দেয়া হয়েছে পরিমানের চাইতে অনেক কম। কৃষকদের না জানাকে পুঁজি করে পরিচর্চার খরচও দেয়া হয়েছে নাম মাএ যা সঠিক তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে বলে জানিয়েছন প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী।
করমুক্ত রাজস্ব খাতের আওতায় কাজু বাদাম প্রকল্পে প্রতি ৫০ শতক জমিতে ঘেরা ভেড়া ও চারা গাছ বহন খরচ বাবদ ৬,০০০/- (ছয় হাজার) টাকার স্থলে কৃষককে দেয়া হয়েছে ৪ হাজার ৫শত টাকা। কপি প্রকল্পে প্রতি ০.৩৩ শতক জমির জন্য ২,০০০/- (দুই হাজার) টাকার স্থলে ১হাজার ৫শত টাকা, পুরাতন বাগান পরিচর্চা বাবদ ৩হাজর দুইশত টাকার স্থলে দেয়া হয়েছে ২হাজার ৪শত টাকা। সার ও কিটনাশক দেয়া হয়েছে খেয়াল খুশিমত।
সাইট্রাস / লেবু চাষ প্রকল্পে প্রতি ৪০ শতক জমির জন্য ৩হাজার দুইশত টাকার স্থলে কৃষককে দেয়া হয়েছে ২হাজার ৫শত টাকা। সার ও কিটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ দেয়া হয়েছে নিজেদের খেয়াল খুশি মত।
কৃষি অফিসের এসব অনিয়ম ,দুর্নীতি দৈনিক পার্বত্য. কম প্রতিনিধি তথ্য জানতে পেয়ে কৃষি উপকরণ বিতরণের তথ্য জানার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিকট বারবার গেলেও তাহার অনুপস্থিত ও বিভিন্ন ব্যস্ততার নাম করে কোন তথ্য না দিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টে তথ্য দেয়ার মত লোক নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষি উপ-সহকারী বলেছেন, মোস্তাফিজুর রহমানের স্বেচ্চা চারিতা অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
কৃষক হয়রানী ও অনিয়ম নিয়ে কথা বললে তাৎক্ষনিক উপজেলার বিভিন্ন ব্লকে বদলি করা হয়। সে ক্ষেত্রে নিজের ব্যাক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজের জন্য উপ-সহকারী আমির হোসেন কে সুবিদা জনক ব্লকে রাখা হয়।
প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী বলেন,আমাদের জন্য কি বরাদ্ধ তা জানি না, কৃষি অফিস হতে ১৫টি লেবুর চারা, ৪৫ টি মাল্টার চারা, ৫ বোতল কটিনাশক ও ১২শত টাকা দিয়েছে।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কৃষক আব্দুল বারেক বলেন, ১০ শতক জমির জন্য, তিন ধরণের সার, তিন বোতল ঔষধ, লেবুর চারা ১০টা মালটার চারা ২০টা ও নগদ ৬০০টাকা দিয়েছে।
১ঘন্টারও বেশি সময় দপ্তরে বসে থাকার পর কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। শুধু বলেছেন রাসায়নিক সার,জৈবসার ও গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। আমার কাজ আছে, এখন কথা বলতে পারবোনা। বিতরণকৃত উপকরণের তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিমান আমার জানা নাই। কাগজ পত্র দেখে আমার সময় মত বলব।
Leave a Reply